দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ‘সেরা বিশেষ প্রতিবেদক’ নির্বাচিত মোহাম্মদ আখতার হোসেন
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ‘সেরা বিশেষ প্রতিবেদক’ নির্বাচিত মোহাম্মদ আখতার হোসেন


দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ‘সেরা বিশেষ প্রতিবেদক’ নির্বাচিত মোহাম্মদ আখতার হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১৮ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, নির্ভীক কলম, আর সত্য প্রকাশের অদম্য সাহস,এই তিন গুণেই দেশের সেরা বিশেষ প্রতিনিধির আসনে বসেছেন মোহাম্মদ আখতার হোসেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশেষ মূল্যায়নে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে “সেরা বিশেষ প্রতিবেদক” (প্রথম স্থান) নির্বাচিত হয়েছেন।
তার মেধা ও দক্ষতার স্বীকৃতি এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্য দিয়েও।
তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, গাজীপুর জেলার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সভাপতি ও পূবাইল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন।
জানা যায়,১৮ বছরের অভিজ্ঞ সাংবাদিক যুগান্তর থেকে প্রতিদিনের কাগজ পর্যন্ত আলোচিত পথচলা মোটেও সহজ ছিলনা।সাংবাদিকতা প্রতিটি মূহুর্তে অন্যায়-উৎপীড়ণ, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।
জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা অপবাদ পেরিয়ে আজকের আখতার হোসেনের এই অর্জন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু তথাকথিত সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাকে বিদায় নিতে হয় প্রথমে দৈনিক যুগান্তর থেকে, পরে দৈনিক জনকণ্ঠ থেকেও।কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে গাজীপুরে প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে কেটু মিজান বাহিনী।ওই সময়টাতে গাজীপুরে ভাগ্যের এক কাকতালীয় সাক্ষাতে দেখা হয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক খায়রুল আলম রফিকের সঙ্গে।খায়রুল আলম আখতারকে দেখে বলেন,ভাই, আপনি আমার পত্রিকায় লিখেন।এই এক বাক্য যেন তার মনোবলকে জ্বালিয়ে তোলে নতুন আলোয়।
সম্পাদকের নির্দেশে নিহত সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড নিয়ে আখতার হোসেন ধারাবাহিক ১১ পর্বের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন করেন, যা সারা দেশে আলোড়ন তোলে।এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে সাংবাদিক নিরাপত্তা, অপরাধচক্রের নেপথ্য কাহিনি ও গাজীপুরের বাস্তব চিত্র।তার লেখার গভীরতা ও নির্ভুলতা প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করে এবং তাকে সারা দেশের সেরা বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মাত্র সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে।
এই নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি শুধু সংবাদকর্মী নন, হয়ে উঠেছেন গাজীপুর সাংবাদিক সমাজের এক অদম্য সাহসী কলম সংগ্রামের প্রতীক।
সাফল্যের শেকড় সেই স্কুলজীবন থেকেই
নিজের এই সাফল্যে তিনি স্মরণ করেন ১৯৮৬ সালের কথা,যখন পূবাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একমাত্র প্রথম বিভাগে বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি।
তখন থেকেই তার জীবনের মূল দর্শন—পরিশ্রমই শ্রেষ্ঠ শক্তি। কিন্তু ইতোমধ্যে তার মাথায় ব্রেণ টিউমার সফল অপারেশনের পর অনেকটা ধীরে চলা নীতি অনুসরণ করছেন।তারপরও মনোবল ভাঙেনি। সবার দোয়া অনুপ্রেরণা তাকে শক্তি যোগাচ্ছে।থেমে থাকেনি পথ চলা।
আমার সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা উল্লেখ করে নিজের সাংবাদিকতা দর্শন নিয়ে আখতার হোসেন বলেন—আমার সাথে আমার প্রতিযোগিতা চলছে। কারো সাথে দ্বন্দ্ব নেই, কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। প্রতিদিন শিখছি,আমি সাংবাদিকতায় এখনো শিক্ষানবিশ। আর আমার সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি সাংবাদিক সাব্বির হোসেন সুবীরের হাত ধরে। আর যুগান্তরই আমার শিকড়।
এই বিনয়, আত্মবিশ্বাস ও অবিচল মনোভাবই তাকে আজকের আখতার হোসেনে পরিণত করেছে একজন নীতিনিষ্ঠ, নির্ভীক ও পাঠকপ্রিয় সংবাদকর্মী হিসেবে।তিনি সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।
গাজীপুরের নবীন সাংবাদিকদের কাছে
তার সহমর্মিতা, নৈতিক দিকনির্দেশনা ও সাংবাদিকতার আদর্শ নবীন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে প্রতিদিন।দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ তাকে শুধু স্বীকৃতি দেয়নি,আসলে তাকে দিয়েছে একটি পরিবার।নবীনদের ভালবাসায় তিনি মুগ্ধ ও অভিভূত।
সংবাদপত্রের প্রতিযোগিতামূলক ও ক্ষণস্থায়ী এই জগতে যেখানে অনেকে হারিয়ে যায়, সেখানে মোহাম্মদ আখতার হোসেনের পথচলা প্রমাণ করে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক কখনো মুছে যায় না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়,এটি বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা।
সাহস, সংগ্রাম আর কলমের জয়ের গল্প।



